উচ্চশিক্ষার মান ও র‍্যাঙ্কিং উন্নয়নে সহযোগিতায় আগ্রহী ব্রিটিশ কাউন্সিল

প্রশান্তি ডেক্স ॥  বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং উন্নয়নে সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এই আগ্রহের কথা জানায়। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বসের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠকে স্টিফেন ফোর্বস বলেন, “বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিকীকরণ, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, একাডেমিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে ব্রিটিশ কাউন্সিল সহযোগিতা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি গবেষণা সহযোগিতা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উন্নয়নেও সহায়তা দেওয়া হবে।” 

ফোর্বস জানান, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল ইতোমধ্যে কাজ করছে। এই মডিউলের আওতায় হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রতিনিধিদল আরও জানায়, এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে টেকসই করতে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই সহযোগিতার আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউজিসি কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের গ্রাজুয়েট তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, “দেশে বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের প্রত্যাশা পূরণ এবং উচ্চশিক্ষা খাতে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইউজিসি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। হিট প্রকল্পের কার্যক্রমও এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

তিনি আরও বলেন, “উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় একটি উদ্বেগজনক বিষয়।” এ সমস্যা মোকাবিলায় পাঠ্যক্রমে সততা, নৈতিকতা, মানবতা ও দেশপ্রেমের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনেরও প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.